ভারতে এমটিভি চালু হবার পর তিনি ছিলেন চ্যানেলটির সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিও জকি বা ভিজে। তিনি দ্রুত ভারতে একজন আকর্ষনীয় মডেল ও উপস্থাপিকায় পরিনত হন। মালাইকার মা একজন মালায়লী এবং বাবা একজন পাঞ্জাবী। তার পিতা অনিল অরোরা নৌবাহিনীতে কাজ করতেন। তার মায়ের নাম জয়েস পলিকার্প। মুম্বাইয়ের স্বামী বিবেকানন্দ স্কুল থেকে মালাইকা তার দশম গ্রেড সম্পন্ন করেন। তার খালা গ্রেস পলিকার্প ছিলেন সে বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ। তিনি হলি ক্রস কনভেন্ট উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন ছাত্রীও ছিলেন যেখানে তিনি নবম গ্রেড পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। মডেলিংকে পেশা হিসেবে নেবার আগে তিনি বরলা সোসাইটির কাছে বাসান্ত টকিসে থাকতেন।
পুরো লেখাটি পড়তে না চাইলে ভিডিওটি দেখুন
বিভিন্ন পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে তার সপ্রতিভ উপস্থাপনায় মুগ্ধ
হয়ে এমটিভি ইন্ডিয়া তাকে তাদের চ্যানেলে নিয়োগ দেয়। এখান থেকে তিনি তার মডেলিং জীবন প্রসারিত করেন। মালাইকা
এসময় প্রভূত বিজ্ঞাপনে অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়া হিন্দি চলচ্চিত্রে গানের চিত্রায়নে অংশ নিয়ে তিনি
জনপ্রিয়তা পেয়েছেন।
দিল সে সিনেমায় ট্রেনের উপর শাহরুখের সঙ্গে একটি গানের দৃশ্যে
অভিনয় করার পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি বলিউডের সফল সুপার মডেল ও অভিনেত্রীকে। হিন্দি
সিনেমার আইকনিক গান ছাইয়্যা ছাইয়্যাতে অভিনয় করা পরই তিনি বিশাল খ্যাতি অর্জন করেন। নাচের
অসাধারণ অঙ্গভঙ্গি, সুন্দর চেহারার মালাইয়া অরোরা লক্ষ লক্ষ হৃদয়ের স্পন্দন
তুলেছিলেন। এখনও সেই রেশ বর্তমান।
মালাইকা নিজে ফিট থাকেন এবং
প্রতি সোমবার “মালাইকা’স মানডে মোটিভেশন” হ্যাশট্যাগে ছবি পোস্ট করে অন্যদেরও ফিট
থাকার অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছেন। যোগব্যায়াম না করে দিন শুরু করেন না মালাইকা অরোরা। কেবল
শারীরিক সুস্থতার জন্যই নয়, মন এবং ৪৯–এ দাঁড়িয়েও তাঁর চামড়া যে এতটা তারুণ্য বহন
করে, এ জন্যও তিনি ধন্যবাদ দেন যোগব্যায়ামকে, “ইয়োগা তোমাকে তুমি হয়ে
উঠতে সাহায্য করে। তাই তোমার নিজের পুরো
সত্তার বিকাশের জন্য যোগব্যায়াম অবশ্যক।”
মালাইকা নিয়মিত তার ইনস্টাগ্রামে প্রোফাইলে
যোগব্যায়াম সম্পর্কিত বিভিন্ম টিপ্সস শেয়ার করেন।
বিভিন্ন যোগব্যায়ামের আসনের ছবি পোস্ট করেন।
পোস্টের ক্যাপশনে জানিয়ে দেন আসনের সব নিয়মকানুন।
আপনি কতটা শিখতে পারলেন, সেটা দেখার জন্য ছবি তুলে ট্যাগও করে দিতে বলেন তাঁকে।
হাজার হাজার বছরের পুরনো দর্শন হল ইয়োগা। ইয়োগা শুধু ব্যায়াম নয়, শারীরিক ও আত্মিক
উন্নতির পথ। শ্বাসকার্য, শরীরের
উন্নতির জন্যও ইয়োগা অত্যন্ত কার্যকরী প্রক্রিয়া।
মন ও শরীরের গঠন শক্তিশালী করতে ইয়োগা অদ্বিতীয়।
ইয়োগা শুরু করতে পারেন যে কোনও বয়সেই।
মালাইকা লিখেছেন তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে, ‘আপনি যদি সারাদিনে ৫ থেকে ১০
মিনিটও নিজের জন্য সময় বের করতে পারেন তাতেই আপনার স্বাস্থ্যে সুপ্রভাব পড়বে। আগের চাইতে অনেক বেশি ভাল থাকতে পারবেন।’ তাঁর ফিট থাকার তিনটি পর্যায় রয়েছে…
সক্রিয় হন: এই পর্যায়ে থাকে যোগা, জিম এবং
পাইলেটস (পেশি বর্ধক ব্যায়াম)। শরীরকে
এভাবে সক্রিয় করলে দীর্ঘদিন থাকা যায় কর্মক্ষম এবং ক্ষিপ্র।
শ্বাস নিন: মন শান্ত করতে হলে শ্বাসের ব্যায়াম
শেখা জরুরি। ফুসফুসের কার্যকারিতাও
বাড়ায় শ্বাসের ব্যায়াম।
স্মৃতিশক্তি ও মনঃসংযোগের ক্ষমতাও বৃদ্ধি করে।
সংযোগ: সংযোগের অর্থ হল ধ্যান। ‘পাঁচ মিনিটের জন্য হলেও চেষ্টা
করুন ধ্যান করার।’— বলছেন মালাইকা। প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ মিনিটের জন্য
হলেও নিজের যত্ন নিন। ভাল
থাকা ও সুস্থ থাকার ক্ষেত্রে সাহায্য করবে এটুকু পরিচর্যা।—জানিয়েছেন অভিনেত্রী।