ওপেনার
- নাসির জামশেদ
২০১৫ বিশ্বকাপে মোহাম্মদ হাফিজ
যখন কাফ ইঞ্জুরির কারণে বাদ পড়লেন, পাকিস্তানের নির্বাচকরা তখন দলে ডাকলেন নাসির
জামশেদকে। প্রথম ম্যাচে সুযোগ না পেলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ঠিকই একাদশে নামানো হলো
তাকে। সেই ম্যাচে তিনি ক্যাচ ছাড়লেন ডোয়াইন স্মিথের। ব্যাটিং এ নেমেও মারলেন ডাক।
পরের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও আউট হয়ে গেলেন মাত্র ১ রান করেই। সেই ম্যাচেও
চিগুম্বুরার ইজি ক্যাচ ছেড়ে দিলেন মিড উইকেটে। পরের ম্যাচে আরব আমিরাতের বিপক্ষে
আবারও আউট হলেন সিঙ্গেল ডিজিটে। এটাই ছিল তার শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ। ইনফ্যাক্ট তার
শেষ ওয়ানডে ম্যাচও ছিল এটা। এই দলের লর্ড ওপেনার তাই নাসির জামশেদ।
পুরো লেখাটি পড়তে না চাইলে ভিডিওটি দেখুন
ওপেনার
- রমেশ কালুউইথারানা
শ্রীলঙ্কার ১৯৯৬ বিশ্বকাপজয়ী দলে
জ্যায়সুরিয়ার ওপেনিং পার্টনার ছিলেন কালুউইথারানা। বিশ্বকাপ শুরুর আগে
অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ট্রাই-নেশন সিরিজে তাকে প্রোমোট করে নামানো হয়েছিল ওপেনিং
এ। সেখানে তিন ম্যাচে তিনি করে বসেন তিন ফিফটি। কিন্তু বিশ্বকাপে এসে ডাহা ফেইল
মেরে বসেন। ৬ ইনিংসে ১২ অ্যাভারেজে করেন মাত্র ৭৩ রান। যার মধ্যে রয়েছে সেমি
ফাইনাল ও ফাইনালের ০ ও ৬ রান!
ইভেন ১৯৯৯ বিশ্বকাপের আগের
সিরিজেও করেন চারটি ফিফটি। কিন্তু এবারেই বিশ্বকাপে ফেইল মারেন তিনি। পাঁচ ইনিংসে
করেন মাত্র ৯০ রান। মজার ব্যাপার হচ্ছে, শুধু বিশ্বকাপেই বাজে খেলতেন তিনি। রানের
দিক দিয়ে হিসবে করলে জ্যায়সুরিয়ার সাথে তার ওপেনিং পার্টনারশিপ শ্রীলঙ্কার সেকেন্ড
বেস্ট! ওপেনিং এ নাসির জামশেদের লর্ড পার্টনার তাই রমেশ কালুউইথারানা। এই দলের
উইকেট কিপিং এর দায়িত্বেও থাকবেন তিনি।
ওয়ান
ডাউন – আহমেদ শেহজাদ
পাকিস্তান ক্রিকেটের এক সময়কার
পরিচিত নাম আহমেদ শেহজাদ। দেখতে অনেকটা ভিরাট কোহলির মতো হওয়ায় পেয়েছিলেন ব্যাপক
পরিচিতি। ইন্টারন্যাশনাল ক্যারিয়ারটাও তার খুব একটা খারাপ না। তবে বিশ্বকাপে তিনি
ছিলেন একজন জেনুইন লর্ড। যেখানে ৫ ইনিংস খেলে করেছেন মোটে ৪৪ রান। ম্যাচপ্রতি
অ্যাভারেজ ৯ রানেরও কম! ৫০ এর নিচে থাকা স্ট্রাইক রেটকেও বলতে হয় জঘন্য। বিশ্বকাপে
তার ব্যাটিং দেখে কখনো মনে হয় নি তিনি স্বাচ্ছন্দে আছেন। ইভেন অ্যাসোসিয়েট দলগুলোর
বিপক্ষেও না।
নাম্বার
ফোর - হাবিবুল বাশার
এক সময় ছিলেন পুচকে বাংলাদেশ দলের
অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান। যদিও ওয়ানডেতে তার ব্যাটিং অ্যাভারেজ মাত্র ২১.৬৮।
কিন্তু সেই সময় বাংলাদেশের জন্য এটাই ছিল অনেক। যাই হোক, বিশ্বকাপে তিনি সুপার
ফেইলিয়র। ১১ ম্যাচ খেলে ম্যাচপ্রতি করেছেন মোটে ১০.৫০ রান করে।
ইম্রুল ব্রো না, গ্লোবাল লর্ড
অ্যাসোসিয়েশনের বাংলাদেশী অ্যাম্বাসাডর তাই হাবিবুল বাশার।
নাম্বার
ফাইভ - ইনজামাম-উল-হক
২০০৩ সালে ইনজামাম ছিলেন বিশ্বের
অন্যতম সেরা মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। কিন্তু নিজের অত্যধিক ওজন নিয়ে তিনি ছিলেন
ইনসিকিউর্ড। ২০০৩ বিশ্বকাপের আগে তাই ওজন কমানোর জন্য প্রচুর খাটাখাটনি করেন তিনি।
১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী পাকিস্তান দলের হয়ে সেমি ফাইনাল ও ফাইনালে সুন্দর দুটি
ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। একটা ইন্টার্ভিউতে জানিয়েছিলেন ১৯৯২ এর সেই ২২ বছর বয়সী
ছিপছিপে তরুন ইনজামামে ফিরে যেতে চেয়েছিলেন তিনি। সেটা পেরেওছিলেন। কিন্তু ব্যাট
হাতে ফর্মটা ফেলেন হারিয়ে। ৬ ইনিংসে করেন মাত্র ১৯ রান! পাকিস্তানেরও পেরোনো হয় না
গ্রুপ স্টেজের বাঁধা। বিশ্বকাপের আগে ১৭ কেজি ওজন ঝড়ানো তাই কোন কাজেই আসে নি তার।
নাম্বার
সিক্স – অ্যালান বর্ডার
অস্ট্রেলিয়ার প্রথম বিশ্বকাপজয়ী
অধিনায়ক তিনি। তবে সারপ্রাইজিংলি বিশ্বকাপে ইন্ডিভিজুয়ালি তিনি ছিলেন খুবই বাজে
পারফর্মার। ২৫ ম্যাচ খেলে করেছেন মাত্র একটি ফিফটি। ম্যাচ প্রতি রান করেছেন মোটে
১৮ করে! লর্ড অ্যাসোসিয়েশনের বিশ্বকাপ ব্রাঞ্চের ক্যাপ্টেন আর্মব্যান্ড থাকবে তাই
তারই হাতে।
নাম্বার
সেভেন – ইউসুফ পাঠান
আইপিএলে মাত্র ৩৭ বলে সেঞ্চুরি
করে আলোচনায় এসেছিলেন এই হার্ডহিটার ব্যাটিং অলরাউন্ডার। একটিই বিশ্বকাপে খেলার
সুযোগ হয়েছে তার। ২০১১ এর বিশ্বকাপজয়ী দলে ছিলেন তিনি। ৬ ইনিংসে ব্যাট করে করেছেন
মাত্র ৭৪ রান। ভারতীয় দল হিসেবে ব্যাটিং অ্যাভারেজও ভয়াবহ। মাত্র ১৪.৮! বল হাতেও
৩৫ ওভার করে নিয়েছেন মাত্র একটি উইকেট। তবে স্ট্রাইক রেটটা তার ভালো, ১১৬। তাই
লর্ড ইলেভেনে ফিনিশিং এর দায়িত্ব থাকবে তার কাধেই।
নাম্বার
এইট – কেইথ আর্থারটন
১৯৯২ বিশ্বকাপটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের
বাজে কাটলেও, কেইথ আর্থারটন ইন্ডিভিজুয়ালি কাটান দারুণ এক বিশ্বকাপ। ১৯৯৬ বিশ্বকাপ
আসার আগেই দলের নিয়মিত মুখ হয়ে যান তিনি। কিন্তু সেই বিশ্বকাপে জঘন্য রকমের বাজে
খেলেন তিনি। পাঁচ ম্যাচে তিনটি ডাক মারেন। অন্য দুটিতেও করেন মাত্র ১ রান করে।
অর্থাৎ পাঁচ ম্যাচে মোটে ২ রান! সেই বিশ্বকাপের পরে দল থেকে বাদ পড়লেও আবারও ডাক
পান পরের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে। কিন্তু সেখানে মাত্র একটি ম্যাচে সুযোগ পেয়ে করেন
মাত্র ৬ রান। বল হাতেও এক ওভার করে দেন ১০ রান।
তাই এই দলের ছয় নম্বর লর্ড কেইথ
আর্থারটন।
নাম্বার
নাইন – জন ব্রেসওয়েল
জন ব্রেসওয়েল ছিলেন ব্ল্যাক
ক্যাপসদের হয়ে টেস্টে ১০০ উইকেট নেওয়া প্রথম স্পিনার। ১৯৮৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার
বিপক্ষে বিখ্যাত সেই জয়ে তিনি নিয়েছিলেন ১০ উইকেট। তবে ওয়ানডে ক্রিকেটের তার বোলিং
অতটা ইফেক্টিভ ছিল না। বিশ্বকাপে খেলা ৭ টি ম্যাচে তিনি উইকেট শিকার করতে
পেরেছিলেন মাত্র একটি। তার বোলিং অ্যাভারেজ কত ছিল একটু গেস করেন দেখি। মাত্র ৩১০!
বিশ্বকাপ ইতিহাসেরই জঘন্যতম বোলিং অ্যাভারেজ এটি।
নাম্বার
টেন – টনি সুজি
টনি সুজি ছিলেন কেনিয়ান বোলিং
অলরাউন্ডার। অথচ ১৯৯৯, ২০০৩ ও ২০০৭ – তিনটি বিশ্বকাপের ৯ ম্যাচে তিনি বল করেছেন
মাত্র সাত বার। এর মধ্যে কোন ম্যাচেই ৭ ওভারের বেশি বল করেন নি। উইকেটও নিতে
পেরেছেন মোটে একটি। বোলিং অ্যাভারেজও মাশাল্লাহ, মাত্র ১৭০!
নাম্বার
ইলেভেন – শ্রীশান্ত
স্পট ফিক্সিং এর দায়ে নিষিদ্ধ
হওয়া ভারতীয় বোলার শ্রীশান্তের বিশ্বকাপ যাত্রাও ছিল তার ক্যারিয়ার এন্ডের মতোই।
বিশ্বকাপে দুটি ম্যাচে খেলে ১৩ ওভার বোলিং করেছেন তিনি। এই ১৩ ওভারে তিনি কত রান
দিয়েছেন জানেন? ১০৫ রান! অর্থাৎ ওভারপ্রতি ৮ রান করে। কোন উইকেটও জোটেনি কপালে।
নিশ্চিতভাবেই তাই বিশ্বকাপ ইতিহাসের লর্ড ফাস্ট বোলারদের একজন শ্রীশান্ত।