সুরিয়ালিজম বা পরাবাস্তববাদ আসলে কি? What is Surrealism?

Author
0

 


সাররিয়েলিজম - কালচারালি অ্যাকটিভ লোকজনের কাছে খুবই পরিচিত একটি টার্ম। স্পেশালি বই পড়ুয়া, আর্ট লাভার কিংবা সিনেমাপ্রেমীদের কাছে। হোর্হে লুইস বোর্হেস, ফ্রানৎস কাফকা, হারুকি মুরাকামির লেখায়, সালভাদর দালি, ভিনসেন্ট ভ্যান গগের আর্টে কিংবা হায়াও মিয়াজাকির স্টুডিও জিবলির সিনেমাগুলোতে নিয়মিতই সাররিয়েলিজম এসেছেকিন্তু বেশিরভাগ সাধারণ মানুষের কাছে এই ব্যাপারটি দুর্বোধ্য এক রহস্য।

সহজ ভাষায় বললে সাররিয়েলিজম হচ্ছে বাস্তব পরিবেশে অবাস্তব কোন মুহুর্তকে অ্যাস্থেটিক ওয়েতে দেখানো। যার ভেতরে অবশ্যই একটি মেসেজ থাকবে। সেটা যে কোনো ধরণের নীরব প্রতিবাদও হতে পারে।


পুরো লেখাটি পড়তে না চাইলে ভিডিওটি দেখুন



সালভাদর দালি ছিলেন একজন সাররিয়েলিস্ট আর্টিস্ট। ‘দি পারসিস্টেন্স অফ মেমোরি’ নামক তার আর্টটি সাররিয়েলিজমের একটি ক্লাসিক উদাহরণ। যেখানে দেখা যায় একটি মরুভূমিতে বিভিন্ন জিনিসের উপরে গলিত আকারে ঘড়ি ঝুলে আছে। ১৯৩১ সালের এই পেইন্টিং এর মাধ্যমে দালি সময়ের ফ্লুইডিটি ও বাস্তবতার নমনীয়তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে। ভিউয়ার্স তাদের নিজেদের পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে বিভিন্নভাবে একে ইন্টারপ্রেট করে নিতে পারে। দালি এটাই চেয়েছেন। দিন দিন এই পেইন্টিংটি সাররিয়েলিজম মুভমেন্ট ও দালির সতন্ত্র স্টাইলের একটি আইকনিক রিপ্রেজেন্টেশন হয়ে উঠেছে।

আর্টিস্টদের মধ্যে সাররিয়েলিজমের সবথেকে সফল প্রয়োগ ঘটিয়েছেন এই সালভাদর দালিই। তার আর্টগুলোর মতোই তিনি নিজেও ছিলেন ক্ষ্যাপাটে এক চরিত্র। ছবি আঁকার ক্ষেত্রে তিনি প্যারানয়িক ক্রিটিকাল মেথড ব্যবহার করতেন। অর্থাৎ নিজ ইচ্ছায় হ্যালুসিনেশন করতেন তিনি। এরপরে হ্যালুসিনেশনের মাধ্যমে যে চিন্তাগুলো মাথায় আসতো সেগুলোই ফুটিয়ে তুলতেন ক্যানভাসে।

এবারে সাররিয়েলিজমের ইতিহাসের দিকে নজর দেওয়া যাক। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে ইউরোপ ও অ্যামেরিকার প্রগতিশীল শিল্পীরা মিলে পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে একটি কালচারাল মুভমেন্ট শুরু করে। যার নাম ছিল ডাডা মুভমেন্টসেই ডাডাইজম থেকেই ইন্সপায়ার্ড হয়ে সৃষ্টি হয় সাররিয়েলিজম। শুরুটা মূলত ফ্রান্সের প্যারিস থেকেই হয়। ১৯২০ এর দশকে। এরপরেই এটি ধীরে ধীরে ঢুকে যেতে থাকে পৃথিবীর নানা প্রান্তের ভিজ্যুয়াল আর্ট, সাহিত্য, সিনেমা ও মিউজিকে। যদিও সাররিয়েলিজম শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেছিলেন ফরাসি লেখক গিয়োম এপোলোনেয়ার, ১৯১৭ সালে।



সাররিয়েলিজম সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে লিটারেচার এবং সিনেমাতে। একটা আন্ডাররেটেড বাংলা সিনেমার উদাহরণ দেওয়া যাক। প্রদীপ্ত ভট্টাচার্যের বাকিটা ব্যক্তিগত। ২০১৩ সালের এই সিনেমাটি তিনি বানিয়েছিলেন কিছু অ্যাবসার্ড আইডিয়ার উপরে ভিত্তি করে। সিনেমার প্রধান চরিত্র একজন ডকুমেন্টারি ফিল্ম মেকার। সে ভালোবাসার প্রকৃতি বোঝার চেষ্টা করছে। এসব করতে গিয়ে সে একদিন মোহিনী নামক অদ্ভুত এক গ্রামের খোঁজ পায়, যেখানে গেলে নাকি মানুষ প্রকৃত ভালোবাসা খুঁজে পায়। সেই গ্রামে আগেও গিয়েছে এমন লোকজনকেও সে খুঁজে পায়। কিন্তু তারা আসল লোকেশন জানাতে পারে না। কোনো একভাবে সে ও তার অ্যাসিস্ট্যান্ট একদিন সেই গ্রামে গিয়ে পৌছায়। এরপর ঘটতে থাকে কিছু অ্যাবসার্ড ঘটনা।

স্টুডিও জিবলির হায়াও মিয়াজাকির বেশিরভাগ সিনেমাতেও সাররিয়েলিজমের উদাহরণ দেখা যায়। স্পিরিটেড অ্যাওয়ে থেকে শুরু করে রিসেন্টলি রিলিজড আ বয় অ্যান্ড আ হেরনেও জাদুই ঝাড়ু, স্পিরিটদের দুনিয়া, সমুদ্রের মধ্যে চলমান ট্রেন, ম্যাজিক স্পেল ইত্যাদি প্রচুর সাররিয়েলিজমের উদাহরণ দেখা গেছে।

মতামত

0Comments

আপনার মতামত লিখুন (0)

#buttons=(ঠিক আছে!) #days=(20)

এই ওয়েবসাইটি ব্যবহারে আপনার অভিজ্ঞতাকে আরো উন্নত করার জন্য কুকিজ ব্যবহার করার প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু আমরা কখনই আপনার সম্মতি ছাড়া আপনার কোনো ডাটা সংরক্ষণ করব না। আরো জানুন
Ok, Go it!