নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা কতটুকু? | Election Commission of Bangladesh | Power & Functions

Author
0

 


বাংলাদেশের বিগত বেশ কয়েকটি নির্বাচন নিয়েই রয়েছে প্রশ্ন। যা দেশের জনগণের পাশাপাশি বিদেশী শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর চোখেও পড়েছে। বিরোধী দলগুলোর মতে বর্তমান নির্বাচন কমিশন শুধুই পাপেট। সরকারের ইশারাতেই তারা চলে। আসলেই কি তাই? নির্বাচন কমিশনের কি নিজস্ব কোন ক্ষমতা নেই? থাকলে সেগুলো কি কি?


পুরো লেখাটি পড়তে না চাইলে ভিডিওটি দেখুন


১১


প্রথমেই বোঝা দরকার নির্বাচন কমিশন কি জিনিস। নির্বাচন কমিশন হচ্ছে বাংলাদেশের বিভিন্ন সাংবিধানিক ইলেকশনের কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পাশাপাশি মেয়র নির্বাচন, ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কাজী হাবিবুল আউয়াল।

নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। সংবিধান এবং আইনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে কিছু ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এই ক্ষমতা আসলে কতটুকু? বাংলাদেশের সংবিধানের ১২৬ নম্বর চ্যাপ্টারে বলা আছে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সকল এক্সিকিউটিভ অথোরিটির জন্য বাধ্যতামূলক। চলুন দেখে নেওয়া যাক স্পেসিফিকালি কি কি ক্ষমতা আছে নির্বাচন কমিশনের হাতে।

কর্মকর্তা বদলি

তফসিল ঘোষণার পর আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন চাইলে প্রশাসনের মধ্যে রদবদল আনতে পারে। এই সময়ে বিভাগীয় কমিশনার, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং তাদের অধস্তন কর্মকর্তাদের নির্বাচন কমিশনের সাথে আলোচনা ছাড়া বদলি করা যাবে না। কমিশনের চাহিদা কিংবা ডিসিশন অনুযায়ী যদি সরকার কাজ না করে তাহলে আইনের বরখেলাপ হবে। ইতিহাসে এরকম উদাহরণ আছে। ২০১৬ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের তৎকালীন পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদকে সে জেলা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পরে আবার নির্বাচন কমিশনের অনুমতি ছাড়াই তাকে গাজীপুরে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই যে আইন ভঙ্গ হলো এই ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের করণীয় কিছু সংবিধানে ক্লিয়ারলি বলা নেই! তবে আদালতে যাওয়ার সুযোগ আছে। ভারতে এরকম ঘটনা ঘটেছে। তবে বাংলাদেশে কখনোই কোন ইলেকশন কমিশন আদালতে যায়নি।

ক্যান্ডিডেট বাতিল

যদি কোন ক্যান্ডিডেট নির্বাচনী আইন ও আচরণ বিধি ভঙ্গ করে, তাহলে তার প্রার্থিতা বাতিল করতে পারে নির্বাচন কমিশন। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এরকম কোন উদাহরণও বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেই। সর্বোচ্চ জরিমানা ও সতর্ক করার নজির রয়েছে।

রিটার্নি অফিসারকে কন্ট্রোল করা

বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচনে ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেটরা রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ ও বাতিল করা সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। একজন রিটার্নিং অফিসারকে নির্বাচন কমিশন যেভাবে দায়িত্ব দেবে, তিনি সে দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য। রিটার্নিং অফিসার এই সময়কালে একটি এলাকার ‘অল ইন অল’ বা সর্বেসর্বা। তার সুপারভিশনেই সেই এলাকায় নির্বাচন পরিচালিত হয়।

ফলাফল বাতিল

ইলেকশন প্রসেস ও ভোট চলাকালে সেই ইলেকশন বাতিলের ক্ষমতা আছে কমিশনের হাতে। তবে ইলেকশনের রেজাল্ট গেজেট আকারে জারি হবার পরে সম্পূর্ণ রেজাল্ট বাতিল করতে পারবে না তারা। তবে কমিশন চাইলে রেজাল্ট গেজেট প্রকাশ করা পোস্টপন্ড করতে পারবে। ইলেকশন রিলেটেড যে কোনো অভিযোগ ইনভেস্টিগেট করতে পারবে। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থাও নিতে পারবে। ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে গাইবান্ধায় একটি আসনে উপ-নির্বাচনে ভোটের দিন ব্যাপক পরিমাণে অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে সেদিনই ভোটগ্রহণ বাতিল করেছিল নির্বাচন কমিশন।

মোট কথা, ভোট চলাকালীন নির্বাচন কমিশনের হাতে ব্যাপক ক্ষমতা থাকে। তবে সেই ক্ষমতা তারা কতটুকু অ্যাপ্লাই করতে পারছে কিংবা করছে সেটা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

মতামত

0Comments

আপনার মতামত লিখুন (0)

#buttons=(ঠিক আছে!) #days=(20)

এই ওয়েবসাইটি ব্যবহারে আপনার অভিজ্ঞতাকে আরো উন্নত করার জন্য কুকিজ ব্যবহার করার প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু আমরা কখনই আপনার সম্মতি ছাড়া আপনার কোনো ডাটা সংরক্ষণ করব না। আরো জানুন
Ok, Go it!