সুন্দরী হবার
মাপকাঠিতে বিশ্বজুড়েই এগিয়ে ছিলো যাদের গায়ের রঙ ফর্সা তারাই। কিন্তু আসলে সৌন্দর্যের
কী কোন মাপকাঠি আছে? মনোবিদদের মতে সৌন্দর্য বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করে পরিবার, সমাজ
ও মানুষের নিজস্ব অভিজ্ঞতার ওপর। আবার অনেক সময় সৌন্দর্য নির্ভর করে বৈপরিত্যের ওপর।
ধরুন যেই ব্যাক্তি খুবই ফর্সা এবং বড় হয়েছেন ফর্সা মানূষজনের মধ্যেই তার কিন্তু ফর্সা
মানুষই ভালো লাগবে এমনতা নাও হতে পারে। তিনি কিন্তু পছন্দ করতে পারেন অপেক্ষাকৃত বাদামী
ত্বকের আরেকজনকে।
যেমন আমাদের
এই সাবকন্টিনেন্টে প্রাকৃতিক কারনেই মানুষের গায়ের রঙ কিছুটা ডার্ক। তাই বিদেশ থেকে
আসা একজন সাদা চামরার মানুষ আমাদের কাছে খুবই প্রায়োরিটি পায়। কিন্তু একটু খেয়াল করলে
দেখবেন আমেরিকার মতো দেশ গুলোতে ওখানকার স্থানীয় সাদা চামড়ার মানূষগুলো সবসময় একটু
রোদে পোড়া ট্যান হওয়া বা অপেক্ষাকৃত বাদামী বর্ণের মানুষকেই জীবন সঙ্গিনী করতে পছন্দ
করে।
এখন আসি কুইন
অব ডার্ক এর বিষয়ে। সুন্দরী হতে হলে আপনাকে ফর্সা সাদাই হতে হবে এমন ধারনা কাচের মতো
ভেঙ্গে দিয়েছেন দক্ষিন সুদানের মডেল নায়াকিম গ্যাটওয়েচ। কৃষ্ণ বর্নের এই মডের মাত্র
২৪ বছর বয়সের দাপিয়ে বেড়িয়েছেন পুরো ইন্টারনেট জগত। ইতিমধ্যেই তিনি পেয়েছেন কুইন অব
দার্ক খেতাব। যেই যুগে মানুষ শুধু ক্রিম মেখে ট্রিটমেন্ট নিয়েই নয় ইয়োগা বা শরীরচর্চা
করেও চেষ্টা করে যাচ্ছে ফর্সা সাদা হবার, সেখানে নায়াকিম দেখিয়ে দিয়েছেন যেই ত্বকের
বর্ণ কখনোই আপনার সৌন্দর্যের সংজ্ঞা হতে পারে না।
নায়াকিম এর
বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ইন্তারভিউতে জানান, ত্বকের রঙ নিয়ে ছোটবেলা থেকেই তাকে কম কথা
শুনতে হয়নি। সামাজিক ভাবেও তাকে করা হয়েছে হেনেস্তা। কিন্তু এতো কিছু সহ্য করেও কেবল
মাত্র নিজের আত্নবিশ্বাস আর অপরিসীম সাহসের বলে নায়াকিম উঠে চলেছেন সাফল্যের চুড়ায়।
কিছুদিন আগে
এক উবার ড্রাইভারের সাথে নিজের কথোপকথন তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। যেখানে দেখা
যায়, উবার ড্রাইভার তাকে জিজ্ঞেস করছেন যে তাকে যদি দশ হাজার ডলার দেওয়া হয় তাহলে তিনি
তার স্কিন টোন চেইঞ্জ করবেন কিনা। নায়াকিম হেসে উত্তর দিয়েছেন “এই পৃথিবিতে ইশ্বরের
আমাকে উপহার স্বরুপ দেওয়া এই স্কিন টোন আমি কেনো চেইঞ্জ করবো?”
নায়াকিমের
মতো এরকম আরো অসংখ্য মানুষ আছেন যারা তাদের স্কিন টোনের জন্য প্রতিনিয়ত অন্যের হাসির
খোরাক হয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কত জন এমন পাওয়া যাবে যারা উলটে উত্তর দিতে পারছে? সমাজের
বিভিন্ন চোখ রাঙ্গানি উপেক্ষা করেই নায়াকিম আজকে সাফল্যের উচ্চ শিখরে আরোহন করতে পেরেছেন।
অথচ আমাদের দেশে এমন অহরহ দেখা যায় গায়ের রঙ কালো বলে চাকরির ক্ষেত্রে সমান সুযোগ না
পাওয়া থেকে শুরু করে বিবে পর্যন্ত ভেঙ্গে যায়। সমাজের এইসকল সোশ্যাল ট্যাবুর বিরুদ্ধে
মাথা তুলে দাঁড়াতে শেখায় নায়াকিম গ্যাটওয়েচ এর মতো মানুষেরা।