"ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো…"
৯০ এর দশকের জনপ্রিয় এই গানটি শোনেননি এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া দূর্লভ।
প্রতিটি মোড়ে, রাস্তায়, ব্যর্থ প্রেমিকের ঠোঁটে গানটি যেন জীবন্ত হয়ে উঠতো। বর্তমান
সময়ে এসেও এ গান আজও জীবন্ত। সেই কালজয়ী গানে অভিনয় করেছিলেন সেই সময়ের খ্যাতনামা অভিনেতা
সালমান শাহ্ এবং অভিনেত্রী শাবনুর।
পুরো লেখাটি পড়তে না চাইলে ভিডিওটি দেখুন
শাবনুরের পুরো নাম, "কাজী শারমিন নাহিদ নুপুর"। ১৯৭৯
সালের ১৭ ডিসেম্বর, যশোরের নাভারণ জেলার শার্শা এলাকায় জন্মগ্রহন করেন। পিতার নাম,
শাহজাহান চৌধুরী। মাতার নাম, আমেনা বেগম। তিন ভাইবোনের মধ্যে শাবনুর ছিলো পরিবারের
বড় সন্তান। তার ছোট বোন ঝুমুর ও ভাই তমাল। পরিচালক এহতেশামের সিনেমা " চাঁদনী
রাতে" এর মাধ্যমে চলচিত্রে অভিষেক হয় শাবনুরের। শাবনুর নামটি মূলত রেখেছিলেন পরিচালক
এহতেশাম।
প্রথম সিনেমা ব্যবসায়িক সফলতা না পেলেও পরবর্তিতে চিত্র নায়ক সালমান
শাহ’র সাথে জুটি বেধে বাংলাদেশের সিনেমা পাড়া ও দর্শকদের মাতিয়ে রেখেছিলেন এই নায়িকা।
হঠাৎ করে সালমান শাহ’র মৃত্যুর পরে শাবনুরের
ক্যারিয়ার কিছুটা হুমকির মুখে পরলেও এই সুন্দরী নায়িকা তা কাটিয়ে ওঠেন খুব দ্রুতই।
এর পরে নায়ক রিয়াজ, ফেরদৌস ও সাকিব খানের সাথে জুটি গড়ে দর্শকদের উপহার দেন জনপ্রিয়
অনেক সিনেমা ।
শাবনুরের জনপ্রিয় আরেকটি গান ছিলো "তোমায় দেখলে মনে হয়, হাজার বছর তোমার
সাথে ছিলো পরিচয়…"
"তোমাকে চাই", " স্বপ্নের ঠিকানা",
"নারীর মন", " শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ", "সুন্দরী বধূ",
" জীবন সংসার", "আনন্দ অশ্রু" সহ আরও বেশ কয়েকটি সিনেমাতে শাবনুরের
অনবদ্য অভিনয় তাকে নিয়ে আসে জনপ্রিয়তার শীর্ষে। একজন সফল অভিনেত্রী হিসেবে তিনি ১০
বার তারকা জরিপে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বিভাগে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার লাভ
করেছেন।
স্নিগ্ধ চেহারা, মায়াবী হাসি, চিরায়ত বাঙালি নারীর মধুমাখা চাহনি আর প্রাণবন্ত অভিনয়ের কারণে তার ভক্তকূল তাকে ঢাকাই সিনেমার রাণী বলে আখ্যায়িত করেন।
২০১১ সালের ৬ ডিসেম্বর ব্যবসায়ীক অনিক মাহমুদের সঙ্গে শাবনূরের আংটি বদল হয় এবং ২০১২ সালের ২৮ ডিসেম্বর তারা বিয়ে করেন। বিয়ে করে অস্ট্রেলিয়ায় পারি জমান, এবং সেখানেই নাগরিকত্ব লাভ করেন। ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর তিনি ১ম ছেলে সন্তানের মা হন। তার ছেলের নাম আইজান নিহান। ক্যরিয়ারে সফলতা আর এতো জনপ্রিয়তার পরেও ব্যক্তিগত জীবনে সুখটা বেশিদিন টেকে না। দাম্পত্য কলহের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি অ্যাডভোকেট কাওসার আহমেদের মাধ্যমে অনিক মাহমুদকে তালাক নোটিশ পাঠায় শাবনূর।
৯০ পরবর্তি বাংলা
চলচিত্র মানেই ছিলো শাবনুরের সুপারহিট ছবি। স্নিগ্ধ চেহারা, মায়াবি হাসি, আর প্রাণবন্ত
অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি খুব দ্রুত দর্শকদের মন কেড়ে নিতেন। তবে কিইবা হলো হঠাৎ? কেনোইবা
এতো জনপ্রিয় একজন নায়িকা নিজেকে গুটিয়ে নিলেন? কেনোইবা তাকে আমরা দেখছি না পর্দায়?
বর্তমানে ওটিটি প্লাটফর্ম এর কারণে হলগুলো প্রায় দর্শকশূণ্য হয়ে পড়েছে। এই কারণে পরিচালকরাও তাদের সিনেমায় ব্যবসায়িক সফলতা পাচ্ছে না। ঠিক এই কারণেই চলচিত্র থেকে সরে যান শাবনুর। তবে অনেকে আবার বলছে, মুটিয়ে যাওয়ার কারণেই হয়তো শাবনুর আর সিনেমা করছেন না। দর্শক তার স্বপ্নের নায়িকাকে সবসময় দেখতে চান আবেদনময়ী লুকে। সেখানে নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে দর্শকদের আর মাতাতে পারবেন না ভেবেই হয়তো নিজেকে সরিয়ে নেয় এক সময়ের ঢাকাই সিনেমার এই রাণী। বর্তমানে ছেলে আইজান, মেয়ে ইনায়া এবং নিজ পরিবারকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াতেই স্থায়ী বাস এই নায়িকার।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি
জানিয়েছেন, নিজেকে ফিট করে আবার তিনি ফিরে আসবেন। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাক্তিগত
প্রোফাইল থেকে বিভিন্ন ছবি এবং ভিডিও আপলোড করেন শাবনুর নিজেই। সেখানে তাকে দেখলেই
বোঝা যায় তিনি নিজেকে অনেকটাই ঠিক করে নিয়েছেন। আমরা কি তাহলে আবার পর্দায় দেখতে পাবো
আমাদের সেই চিরচেনা মুখটিকে?