মিশরের পিরামিডের কথাতো শুনেছেন নিশ্চই। ছবিও দেখেছেন তার। বলতে পারেন পিরামিড গুলো কীভাবে তৈরী?
বিজ্ঞানিদের মতে আদি মিশর বা মেসোপটেমিয়ান সভ্যতায়
রাস্ট্রীয় উঁচু পদের লোকজন মারা গেলে তাদের সমাধি হিসেবে পিরামিড তৈরি করা হতো। দেখুন কবরতো আমাদের এখানেও হয়, ওলি আউলিয়া মারা গেলে মাজারও হয়। কিন্তু মিশরের এই সমাধির সাথে আমাদের কবরের পার্থক্য কোথায়?
পুরো লেখাটি পড়তে না চাইলে ভিডিওটি দেখুন
অনেক পার্থক্য আছে। আমাদের কবরে কেবল মাত্র মৃতদেহ দাফন করা হয়, কিন্তু মিশরে পিরামিডের ভেতর পুরো একটা বিশাল বিল্ডিং বানিয়ে একেক ঘরে একেক জিনিস রাখা হতো। যেমন ধরি কোন রাজা বা ফারাও মারা গেলেন, তার সাথে তার জন্য হাজার বছরের জামা কাপড়, খাবার, গবাদিপশু, স্বর্নালংকার, পানি, এমনকি তার ভৃত্য বা চাকরদেরও জীবন্ত মমি বানিয়ে তার পিরামিডে ঠুসে দেওয়া হতো। মানে মারা গিয়ে যদি ওইলোক আবার জেগেও ওঠে তার খাবার দাবার থেকে শুরু করে বাতাস করার মানুষটা পর্যন্ত পিরামিডের ভেতরে আছে।
এবার আসা যাক পিরামিড এর আর্কিটেকচারাল আলাপে। পিরামিডের আর্কিটেকচার খুবই জটিল এবং শ্রমসাপেক্ষ। একেকটা
পিরামিড বানাতে ধারনা করা কয়
কয়েক হাজার শ্রমিকের কয়েক বছর লেগে যেতো। তা বুঝলাম কিন্তু এতো বড় আর
ভারী পাথর তারা এতো ওপরে তুলতো কীভাবে? একজন মানুষের পক্ষেতো একটা পাথর একা তোলা সম্ভব না। আবার কয়েকজন মানুষ একসাথে একটা পাথর নিয়ে উঠতে গেলে ব্যালেন্স রাখতে পারার কথা না। তাহলে হলোটা কিভাবে? পাথর উপরে গেলো কী করে?
অনেকের মতে মিশর ততকালীন সময়ে জ্ঞান বিজ্ঞান ও টেকনোলজিতে অন্যান্য
এলাকার চাইতে এগিয়ে ছিলো অনেক। তারা কপিকল পদ্ধতি অনুসরন করে লিভারের সাহায্যে এতো বিশাল বড় ভারী পাথরগুলো কে ওপরে তুলতে সক্ষম হয়েছে।
এখন কিছুদিন আগের একটা বিষয়ে আসি। কিছুদিন আগেই একদল আর্কিওলজিস্ট একটা পিরামিডের পাশেই আরেকটি ধাতব চৌকোনা বাক্স আবিষ্কার করে। বাক্সটির
গায়ে খোদাই করা কারুকার্যে সবাই একরকম ট্যারা হয়ে যায়। এতো সুক্ষ কারুকার্য এতো হাজার বছর আগে কীভাবে সম্ভব। বাক্সটি
এখনো খোলা যায় নি। জানা যায়নি বাক্সের ভেতরে কী আছে। এই বাক্সটি খুঁজে পাওয়ার পর
থেকেই আর্কিওলজিস্ট এর দলটির ধারনা বাক্সটি কোন এলিয়েন শিপের ভাঙ্গা অংশ অথবা এলিয়েনদের রেখে যাওয়া কোন সিন্দুক ধরনের কিছু একটা।
এইবার আসি মূল আলাপে, খুব সম্প্রতি
এলন মাস্ক তার এক টুইটার বার্তায় বলেছেন মিশরের পিরামিড গুলো মানূষের তৈরি হবার কথা না। আসলে সম্ভবই না। বরং সেগুলো তখন কেবল এলিয়েন টেকনোলজির সাহায্যেই করা সম্ভব। এলন মাস্কের মতো একজন মানুষ নিশ্চই আজগুবি বোগাস কথা বলবেন না। তার মানে তিনি তার রকেট তৈরীর প্রতিষ্ঠানের রিসার্চের
সুবাদে নিশ্চই কোন তথ্য পেয়েই এই কথা বলেছেন।
আপনি কী মিশরের পিরামিডের গায়ে বা
তখনকার পুঁথি পত্রে তাদের কোন লেখা দেখেছেন? লেখা গুলোকী খুব স্বাভাবিক কিছু? একদমই না। অক্ষর বলতে বিভিন্ন ভাষায় আমরা যা দেখি মিশরের অক্ষরগুলো একদমই ভিন্ন। বিভিন্ন ধরনের ফিজিক্যাল স্ট্যাকচার দিয়ে তাদের অক্ষর বানানো হয়। তাতে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে এই
ভাষাটি কী
সত্যিই পৃথিবীতে সৃষ্টি?
এছাড়াও মিশরের পিরামিডের ভেতর ও বাহিরের বিভিন্ন ছবিতে অদ্ভুত অদ্ভুত জীব জন্তুর ছবি দেখা যায় যেগুলো পৃথিবীতে পাওয়া একদমই অসম্ভব। এমনো কিছু ছবি আছে যেগুলোতে কিছু জটিল যন্ত্রপাতির প্রমান পাওয়া যায়। ওই সময়ে এতো জটিল যন্তপাতির ভাবনাও এলো কী করে তাদের মাথায়?