মাঝে মাঝে দেখা যায় কিছু নেতা দল থেকে নমিনেশন না পেয়ে নিজে নিজেই ইলেকশনে দাঁড়ায়। এই স্বতন্ত্র প্রার্থীতা ব্যাপারটা আসলে কি? এর সাথে দলীয়ভাবে নির্বাচন করা প্রার্থীরই বা পার্থক্য কি?
১২তম জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের বিপরীতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন
চেয়ে আবেদন করেছিলেন দলটির প্রায় ৩ হাজার ৩৬২ জন নেতা। এদের মধ্যে নৌকার হয়ে
নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন মাত্র ২৯৮ জন। মনোনয়ন না পাওয়া নেতাদের
অনেকেই এখন তাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
স্বতন্ত্র মানে হচ্ছে কোনো দলের ছায়ায় না থেকে বরং নিজ দায়িত্বে নির্বাচনে অংশ
নেওয়া।
দলীয় প্রার্থী হতে হলে যেমন কিছু ক্রাইটেরিয়া আছে, তেমনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হলেও কিছু ক্রাইটেরিয়া থাকা লাগে। যার মধ্যে একটি হচ্ছে যেই আসনে সে নির্বাচন করতে চায়, সেখানকার অন্তত ১% ভোটারের সিগনেচার জমা দিতে হবে। তা না হলে ডিস্ট্রিক্ট রিটার্নিং অফিসার সেই ক্যান্ডিডেটের প্রার্থীতা বাতিল করে দিতে পারেন। তবে ক্যান্ডিডেট যদি অতীতে কখনো সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালন করে থাকেন, তাহলে তার ক্ষেত্রে এর কোনো দরকার নেই। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাদনের ক্ষেত্রেও ক্যান্ডিডেটকে ভোটারদের সমর্থনের কোন প্রমাণ দেখাতে হয় না। তবে পৌরসভায় ১০০ ভোটার, উপজেলায় ২৫০ ভোটার এবং সিটি করপোরেশনে ৩০০ ভোটারের সমর্থন তালিকা জমা দিতে হয়। ভোটারদের সমর্থন প্রমাণ ছাড়াও আরেকটি ক্রাইটেরিয়া হচ্ছে জামানত হিসেবে ক্যান্ডিডেটকে ২০ হাজার টাকা জমা দিতে হয়।
এই দুটো ক্রাইটেরিয়া পূরণ করতে পারলেই যে কেউ স্বতন্ত্র
প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়াতে পারে।