বিপিএল ২০১৮। আগের আসরেই চমৎকার
বোলিং করে আলোচনায় এসেছিলেন স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপু। সেই তুলনায় বল হাতে আঠারোর
বিপিএলে খুব আহামরি কিছু করেন নি তিনি। কিন্তু সব স্পটলাইট কেড়ে নিয়েছিলেন ইউনিক
এক সেলিব্রেশনের মাধ্যমে। উইকেট পেলেই সাপের ফনার মতো মাথার উপরে হাত তুলে
সেলিব্রেট করতেন। যার নাম হয়ে যায় নাগিন ড্যান্স। সেই সেলিব্রেশন নিয়েই মিডিয়া ও
দর্শকদের মধ্যে শুরু হয়েছিল ব্যাপক চর্চা। যা অন্য লেভেলে চলে যায় তার জাতীয় দলে
অভিষেক হওয়ার পরে। মাত্র ১ বছরেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাওয়া অপু
ইতিহাসের অংশ হয়ে যান তার সেই আইকনিক সেলিব্রেশনের মাধ্যমেই।
পুরো লেখাটি পড়তে না চাইলে ভিডিওটি দেখুন
মার্চ ১০, ২০১৮। শ্রীলংকায় চলছিল
তিন দলের মধ্যকার নিদাহাস ট্রফি। সেদিন ছিল স্বাগতিক শ্রীলংকা ও বাংলাদেশের মধ্যকার
ম্যাচ। ভারতের সাথে আগের ম্যাচে জিতে লংকানরা তখন পুরোদমে চাঙা। অন্যদিকে বাংলাদেশ
হেরে বসে আছে ভারতের সাথে। আগে ব্যাট করে শ্রীলংকা করলো ২১৪ রানের বিশাল এক স্কোর।
ম্যাচ গড়ালো শেষ ওভার পর্যন্ত। মুশফিকুর রহিমের ঝড়ো এক ইনিংসে ভর করে ২ বল বাকি
থাকতে সেই ম্যাচ জিতে গেল বাংলাদেশ। বাংলাদেশের খেলায় সবাই অবাক হলেও ম্যাচটা শেষ
হয়েছিল ঠিকঠাক মতোই।
আসল ঝামেলাটা বাঁধে গ্রুপ পর্বের
শেষ ম্যাচে। মাঝের দুই ম্যাচে ভারতের সাথে হারে দুই দলই। তাই শেষ ম্যাচটা ছিল
অঘোষিত সেমি ফাইনাল। শ্রীলংকার ১৫৯ রান চেইজ করতে নামে বাংলাদেশ। টাইগারদের
ব্যাটিং এর সময়েই ঝামেলা বেঁধে যায় দুই দলের মধ্যে। এক পর্যায়ে সাকিব তো মাঠ ছেড়ে
উঠেই যেতে বলছিল বাংলাদেশ দলকে। শেষমেশ খেলা কন্টিনিউ হয়। শেষ দিকে এসে ৮ উইকেট
পড়ে যায় বাংলাদেশের। শেষ ৪ বলে দরকার ছিল ১২ রান। বোলিং এ তখন ডেথ ওভার
স্পেশালিস্ট ইসুরু উডানা। সবাই ধরেই নিয়েছিল আরেকটি হতাশার গল্প লিখতে নেমেছে
বাংলাদেশ দল। কিন্তু পাশার দান উলটে ফেলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এক চার ও এক ছক্কায়
৩ বলেই নিয়ে নেন ১২ রান। প্রথমবারের মতো কোনো সিরিজের ফাইনালে জায়গা করে নেয় টিম
টাইগার্স। ম্যাচ শেষে বুনো উল্লাসে মেতে ওঠে টিম টাইগার্স। টিম ম্যানেজার সুজনকে
পর্যন্ত দেখা যায় নাগিন ড্যান্স দিতে। শ্রীলংকান ক্রিকেটার ও ফ্যানরা বাংলাদেশ
দলের সেই উদযাপন ভালো ভাবে নেয় নি।
ঠিক সেই মুহুর্তেই জন্ম নেয়
ক্রিকেট দুনিয়ার নতুন এক ডার্বি। শ্রীলংকান ক্রিকেটাররা তো মনে রেখেছিলোই সেই
ঘটনা। ইভেন তাদের ভক্ত-সমর্থকরাও সেদিনের পরে হয়ে যায় বাংলাদেশ দলের চিরশত্রু।
পরের বছর বাংলাদেশ সফরে আসে শ্রীলংকা দল। সেখানে বাংলাদেশকে হারিয়ে তারাও দেয়
নাগিন ড্যান্স। এরপর নিয়মিতই দেখা যায় এরকম সিনারিও। তবে অপু দলে না থাকায় ম্যাচে
এখন আর নাগিন ড্যান্স দেখা না গেলেও, দুই দলের লড়াইটা পরিচিত হয়ে উঠেছে নাগিন
ডার্বি নামে। নাজমুল ইসলাম অপুর ইন্টারন্যাশনাল ক্যারিয়ার মাত্র ১৯ ম্যাচেই থেমে
গেলেও, লেগ্যাসি ঠিকই রয়ে গেছে। বাংলাদেশ-শ্রীলংকা দল মুখোমুখি হলেই চলে আসে তার
নাম। নাগিন ডার্বির পায়োনিয়ার বলে কথা।