নির্বাচনী প্রচারণার আচরণবিধি ভেঙ্গে মাগুরায় শো-ডাউন করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন সাকিব আল হাসান। নির্বাচনী প্রচারণার আচরণবিধির কোন নিয়মটি ভেঙ্গেছেন তিনি? নির্বাচন প্রচারণার আচরণবিধি গুলোই বা কি কি?
গত ২৯শে নভেম্বর ঢাকা থেকে মাগুরায় যাওয়ার সময় কামারখালী এলাকা থেকে শোডাউন করে গাড়িবহর নিয়ে মাগুরা শহরে ঢোকে সাকিব। সেই সময় তার ভক্ত-সমর্থকরা ব্যাপক পরিমাণে ভীর করে। যার ফলে সাধারণ মানুষজন যাতায়াতে ব্যাপক পরিমাণে দুর্ভোগে পড়েন। নির্বাচনী প্রচারণার আচরণবিধি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের আগেই প্রচারণায় নেমে পড়ায় নির্বাচন কমিশনও সাকিবকে শোকজ করে জবাবদিহি করতে বলা হয়েছে। এবারে আসুন নির্বাচনী প্রচারণার আচরণবিধিগুলো দেখে নেওয়া যাক।
পুরো লেখাটি পড়তে না চাইলে ভিডিওটি দেখুন
নাম্বার ওয়ান – কোন প্রার্থী অথবা তার পক্ষের কোন লোক তার
নির্বাচনী এলাকার কোন ব্যক্তি অথবা ইন্সটিটিউশনে চাঁদা অথবা ডোনেশন দিতে পারবে না।
নাম্বার টু – কোন প্রার্থী নির্বাচনের আগে কোন সরকারি,
আধা-সরকারি অথবা ইন্ডিপেন্ডেন্ট কোন প্রতিষ্ঠানের কোন প্রকল্পের অনুমোদন, ঘোষণা বা
ফলক উন্মোচন করতে পারবে না।
নাম্বার থ্রি – নির্বাচনী প্রচারণার পোস্টার ও ব্যানার
অবশ্যই সাদা-কালো হতে হবে এবং তার জন্য নির্দিষ্ট আকার-আকৃতিও দেওয়া আছে।
নাম্বার ফোর – কোন প্রার্থী নমিনেশন পেপার দিতে চাইলে তাকে
অন্য কোন প্রার্থী কোনোভাবে বাঁধা দিতে পারবে না।
নাম্বার ফাইভ – কোন প্রার্থী তার প্রতিপক্ষ প্রার্থীর
পক্ষে বা বিপক্ষে ভোটারদেরকে কোনোভাবে ইনফ্লুয়েন্স করতে পারবে না। প্রতিপক্ষ প্রার্থীর
প্রচারণাতেও কোনো ধরণের বাঁধা দিতে পারবে না।
নাম্বার সিক্স – কোন প্রার্থী যদি সরকারি সুবিধাভোগী কোন
গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হয়ে থাকেন, তাহলে তিনি সরকারি কর্মসূচির সাথে নির্বাচনী
কর্মসূচি মিলিয়ে ফেলতে পারবেন না। প্রচারণায় সরকারি যানবাহন অথবা কোনরকম
সুযোগ-সুবিধাও ভোগ করতে পারবেন না।
নাম্বার সেভেন – কোন দল বা প্রার্থী নিজের নির্বাচনী
প্রচারণায় সরকারি ডাক-বাংলো, রেস্ট হাউজ বা কোন সরকারি কার্যালয় ব্যবহার করতে
পারবে না।
নাম্বার এইট – ভোটের তিন সপ্তাহ সময়ের আগে কোন প্রকার
প্রচারণা করা যাবে না। যেই নিয়ম সাকিব অমান্য করেছেন।
নাম্বার নাইন – নির্বাচনী প্রচারণার জন্য কোন সভা বা মিছিল
করতে চাইলে তার ২৪ ঘণ্টা আগে পুলিশকে জানাতে হবে। যেন সেই সময়ে হুট করে সাধারণ
জনগণ চলাচলে কোন রকম ভোগান্তির শিকার না হয়। এই নিয়মটিও সাকিব ভেঙ্গেছেন।
নাম্বার টেন – দেওয়াল, গাছ, ইলেকট্রিক বা টেলিফোনের খুটি ও
কোন প্রকার পাবলিক ট্রান্সপোর্টে পোস্টার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল লাগিয়ে অথবা লিখে
প্রচারণা চালানো যাবে না। এছাড়াও অপনেন্ট ক্যান্ডিডেটের প্রচারণা পোস্টারের উপরে
কোন প্রার্থী নিজের পোস্টার লাগাতে পারবে না।
নাম্বার ইলেভেন – নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে প্রতীক
হিসেবে জীবন্ত প্রাণী ব্যবহার করা যাবে না।
নাম্বার টুয়েলভ – প্রচারণার জন্য ৪০০ বর্গফুটের বেশি জায়গা
নিয়ে প্যান্ডেল করা যাবে না। এছাড়াও ইলেকট্রিসিটির সাহায্য নিয়ে কোনো প্রকার
আলোকসজ্জাও করা যাবে না।
নাম্বার থার্টিন – কোন প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণার স্বার্থে
কোন ধরণের স্যুভেনির, শার্ট, জ্যাকেট বা ফতুয়া ব্যবহার করা যাবে না।
নাম্বার ফোরটিন – ভোট ক্যাম্পে ভোটারদেরকে খাদ্য, সফট
ড্রিঙ্কস অথবা কোন ধরণের ঘুষ বা উপহার দেওয়া যাবে না।
নাম্বার ফিফটিন – মসজিদ, মন্দির, গির্জা অথবা অন্য যে কোনো
ধর্মীয় স্থানে কোনো ধরণের নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না।
নাম্বার সিক্সটিন – একজন প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণায়
সর্বোচ্চ কত টাকা খরচ করতে পারবে তারও লিমিট ঠিক করা আছে। ভোটারপ্রতি সেই লিমিট
মাত্র ১০ টাকা। তবে একজন প্রার্থীর নির্বাচনী এলাকায় সবমিলিয়ে খরচ ২৫ লাখ টাকার
বেশি হওয়া যাবে না।
মোটামুটি এগুলোই বেসিক নির্বাচনী প্রচারণা আচরণবিধি।
এগুলোর কোনোটি অমান্য করলে রয়েছে শাস্তির ব্যবস্থাও। শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে
সর্বোচ্চ ছয় মাসের জেল বা পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা। সেই সাথে তার প্রার্থীতা
বাতিল করে তার পলিটিকাল পার্টিকেও পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে।