যমজ শিশুদের মধ্যে অস্বাভাবিক যোগাযোগ | টুইনসদের মধ্যে টেলিপ্যাথিক কানেকশান | The Telepathic Connection Between Twins

Author
0

 

গ্রীক শব্দ ‘টেলি’ অর্থ দূর থেকে আর ‘প্যাথি’ অর্থ অনুভব করা টেলিপ্যাথিতে বিশ্বাস করেন না এমন মানুষ যেমন অহরহ পাওয়া যায়, ঠিক তেমনি তীব্রভাবে টেলিপ্যাথিতে বিশ্বাস করেন এমন মানুষও বিরল নন “তুমি ঠিক আছো তো? কেন যেন মনে হলো তোমার কোনো বিপদ হয়েছে”- এ ধরনের কথা শুনতে অভ্যস্ত অনেকেই এমনকি মনস্তত্ত্ববিদরাও টেলিপ্যাথিকে এখন বিজ্ঞানসম্মত বলেই ঘোষণা দিয়েছেন ইএসপির (Extra-Sensory Perception) জোরে অনেকেই আগে থেকে আভাস পেয়ে যাবেন সামনে কী ঘটতে চলেছে এমনকি এখনও পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার বেশ কিছু আদিবাসী সম্প্রদায় এখনো প্রস্তর যুগের কিছু কৌশল ব্যবহার করেই দূরদূরান্তে অবস্থানরত প্রিয়জনের সাথে যোগাযোগ করে শিকারী গোত্রগুলো নাকি মানসিক শক্তি ব্যবহার করে প্রাণীদের ডেকে আনতে পারে ফাঁদের গহীনে। এখন কথা হচ্ছে টুইনদের মধ্যে এই স্পেশাল কানেকশনটা কেন থাকে?


পুরো লেখাটি পড়তে না চাইলে ভিডিওটি দেখুন



যখন একটি একক জাইগোট গর্ভাশয়ে দুটি ভাগে বিভক্ত হয়, তখন তারা একই জিন এবং ডেভেলপমেন্টাল স্টেজ শেয়ার করে বিভক্তির সময় তারা প্রথম দিকে ভাগ করে নেওয়া টেলিপ্যাথিক বন্ডের তীব্রতা নির্ধারণ করতে পারে, যদিও গবেষণায় দেখা গেছে যে যমজরা গর্ভে ১৪ সপ্তাহের মধ্যে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করে তারা নিজেদের চেয়ে গর্ভে থাকা টুইনের দিকে মনোযোগী হওয়ার সম্ভাবনা ৩০ শতাংশ বেশি। টুইন টেলিপ্যাথি তিনভাবে প্রকাশ পেতে পারে শেয়ারড মেন্টাল বন্ড, শেয়ারড ফিজিক্যাল বন্ড এবং শেয়ারড সিক্রেট ল্যাংগুয়েজ। যমজরা একে অপরের মস্তিষ্কের তরঙ্গের সাথে সংযোগ স্থাপন করার মাধ্যমে শেয়ারড মেন্টাল বন্ড তৈরি করে তারা তাদের টুইন মুখ খোলার আগেই জেনে যায় সে কি বলতে যাচ্ছে এছাড়া কোন ভুল হলেও তারা টের পেয়ে যায় তারা কখনও কখনও মেন্টাল ইমেজের মাধ্যমে অন্য যমজ কী করছে তা দেখতে পারে, এমনকি সেই সময়ে তারা একসাথে না থাকলেও

 

স্যার ফ্রান্সিস গ্যালটন, ভিক্টোরিয়ান যুগের একজন পলিম্যাথ, টুইন বিহেভিয়র নিয়ে স্টাডি করেছিলেন তিনি স্কটল্যান্ডে একজন ব্যক্তির মুখোমুখি হন যিনি লন্ডনে তার যমজ ভাইয়ের জন্য খোদাই করা শ্যাম্পেইন গ্লাসের একটি সেট কিনেছিলেন, যেন তার ভাইও কিছুদিন পরে তাকে একইরকম শ্যাম্পেইন গ্লাস গিফট করে সারপ্রাইজ দিতে পারে। শেয়ারড ফিজিক্যাল বন্ডের ব্যাপারটা বুঝানোর জন্য একটা উদাহরণ দিচ্ছি ১৯৫৮ সালে গ্লোরিয়া ভ্যান্ডারবিল্ট ও থেলমা ফার্নেস তাদের অটোবায়োগ্রাফিতে উল্লেখ করেন, তারা ছিলেন দুটো আলাদা শহরে থাকা দুজন টুইন প্রেগনেন্ট থেলমা থাকতেন লন্ডনে এবং গ্লোরিয়া থাকতেন নিউ ইয়র্কে গ্লোরিয়া জানান একদিন রাতে হঠাৎ তার তীব্র পেটে ব্যথা শুরু হয়, বাচ্চা প্রসবের সময়কার মতো সেদিন রাতে সে সিডাটিভ নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে সকালে উঠে সে জানতে পারে সেদিন রাতে থেলমা একজন প্রিম্যাচিউর ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন

 


এবার আসি সিক্রেট ল্যাংগুয়েজের ব্যাপারটাতে টুইনরা অনেকসময় নিজেদের মধ্যকার পার্সোনাল যোগাযোগ রক্ষার্থে সিক্রেট ল্যাংগুয়েজ তৈরি করে, যা শুধুমাত্র তারাই বুঝতে পারে এটাকে বলা হয় ক্রিপ্টোফ্যাসিয়া টুইনরা তাদের মাতৃভাষার গ্রামার ব্যবহার না করেও নিজেদেরকে বুঝতে পারে রিয়েল ওয়ার্ল্ডের ক্রিপ্টোফ্যাসিয়ার উদাহরণ হিসেবে বলা যায় জুন ও জেনিফার গিবন্সের কথা ওয়েলসে বসবাসরত এই আইডেন্টিকাল টুইন ছিল নির্বাক তারা অন্য কারো সাথে কথা বলতে সক্ষম ছিল না তবে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য একটি সিক্রেট ল্যাংগুয়েজ তৈরি করে নিয়েছিল

উপসংহারে বলবো, যদিও টুইন টেলিপ্যাথির ধারণাটি আকর্ষণীয় ও চিত্তাকর্ষক রয়ে গেছে কিন্তু সায়েন্টিফিক কমিউনিটি এখনও যমজদের মধ্যে সত্যিকারের টেলিপ্যাথিক লিঙ্কের অস্তিত্বকে সমর্থন করে এরকম কোন শক্তিশালী প্রমাণ সরবরাহ করতে পারেনি টুইন টেলিপ্যাথির জন্য দায়ী অনেক ঘটনাকে অলৌকিক বা মানসিক ক্ষমতার পরিবর্তে যমজদের প্রাকৃতিকভাবে থাকা ইউনিক বন্ড ও শেয়ারড এক্সপেরিয়েন্স এর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে

মতামত

0Comments

আপনার মতামত লিখুন (0)

#buttons=(ঠিক আছে!) #days=(20)

এই ওয়েবসাইটি ব্যবহারে আপনার অভিজ্ঞতাকে আরো উন্নত করার জন্য কুকিজ ব্যবহার করার প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু আমরা কখনই আপনার সম্মতি ছাড়া আপনার কোনো ডাটা সংরক্ষণ করব না। আরো জানুন
Ok, Go it!