মিয়ানমার ছাড়া বিশ্বের আর কোথায় কোথায় জান্তা শাসন চলছে? What is Junta Government?

Author
0


মিয়ানমারের জান্তা সরকার...তারা ভালো নাকি খারাপ? সেই ব্যাপারে পরে আসছি। প্রথমে মিয়ানমারের সিচুয়েশনটা ছোট্ট করে ক্লিয়ার করা যাক। দেশটির অবস্থা এখন ভয়াবহ। দেশটির বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপের সাথে সীমান্তবর্তী প্রদেশে সামরিক সরকারের লড়াই এখন তুঙ্গে। এখন থেকে তিন বছর আগে মিয়ানমারে অং সান সুচির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসিকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে নেয় সামরিক সরকার। এরপর থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় জান্তা বিরোধী প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ জোরালো হতে থাকে। মিয়ানমারের তিনটি জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী, যারা ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স নামে পরিচিত, তারা এ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। এখন কথা হচ্ছে এই জান্তা সরকার আসলে কারা?


পুরো লেখাটি পড়তে না চাইলে ভিডিওটি দেখুন



বিভিন্ন দেশের শব্দটির বিভিন্ন উচ্চারণ দেখা যায়। জান্তা, জান্টা, হুন্তা ইত্যাদি। শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে সভা বা পরিষদ। তবে জান্তা শব্দটি ব্যবহৃত হয় এক বিশেষ ধরণের সরকারকে বোঝাতে। যারা গণতন্ত্রের তোয়াক্কা না করে জোর জবরদস্তি করে দেশের কন্ট্রোল নিয়ে নেয়। বিশেষ করে এই কাজটি যখন সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারা করে থাকে তখন তাকে বলা হয় জান্তা সরকার। জান্তা সরকার প্রথম দেখা যায় ১৮০৮ সালে। সম্রাট নেপোলিয়ন আক্রমণ করলে সেই সময়কার স্পেন শাসক দেশ চালাতে বিশ্বে প্রথমবারের মতো জান্তা কমিটি তৈরি করে। সেই কমিটি তখন দেশে জান্তা সামরিক শাসন জারী করে।

তিন বছর আগে মিয়ানমারেও লেজেন্ডারি নেত্রী অং সাং সুচির সরকারকে হটিয়ে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইঙ ক্ষমতা দখল করে। তবে সেই জান্তা সরকারের অবস্থা এখন বেশ নাজুক। তারা টিকবে কিনা তা নিয়েই তৈরি হয়েছে সন্দেহ। বাংলাদেশ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য গুলি ও মর্টারের শব্দে কাঁপছে। সেখানে আরাকান আর্মির সাথে তীব্র সংঘাত হচ্ছে জান্তা সৈন্যদের।

রাখাইন অঞ্চলে আরাকান আর্মি যেভাবে শক্তি বাড়িয়ে বিভিন্ন এলাকা দখল করে নিয়েছে তাতে বিচলিত হয়ে পড়েছে মিয়ানমার সরকার। আগে এই দুই পক্ষের মধ্যে শাটল ডিপ্লোম্যাটের কাজ করতো চীন। তবে চীনের প্রভাব এখন অনেকটাই কমে গেছে। গত জানুয়ারি মাসে চীনের মধ্যস্থতায় ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স ও জান্তা সরকারের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে। কিন্তু সেটি একদমই কাজে দেয়নি।

যাই হোক, জান্তা সরকারে ফেরা যাক। ১৯২০-এর দশক থেকে প্রায়-ই লাতিন আমেরিকায় সামরিক জান্তাদের দেখা গেছে। তবে এই অঞ্চলের জান্তা সরকার তৈরি হতো গুটিকয়েক সদস্য নিয়ে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী স্যামুয়েল ফিনার ১৯৮৮ সালের তার একটি গবেষণাপত্রে লিখেছিলেন, অন্যান্য জায়গায় সামরিক জান্তাদের দলবল ১০-১১ জনের হলেও, লাতিন দেশগুলোতে হতো তিন বা চারজন সদস্যের। অ্যানুয়াল রিভিউ অব পলিটিক্যাল সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত ২০১৪ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, সামরিক জান্তারা একনায়কতন্ত্র ও স্বৈরাচারী স্ট্রংম্যানদের থেকে ডিফ্রেন্ট আচরণ করে। একনায়কদের থেকে স্ট্রংম্যান ও সামরিক শাসনগুলোর মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এর কারণ হিসেবে ধরা হয় তাদের নির্বাদন, কারাগার কিংবা হত্যার ভয় বেশি থাকে।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, বাংলাদেশেও দুই দফা সামরিক জান্তা শাসন দেখা গিয়েছে। ১৯৭৫ থেকে ১৯৮১ পর্যন্ত জিয়াউর রহমানের শাসন এবং ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শাসন। বর্তমানে মিয়ানমার ছাড়াও চাঁদ, গিনি ও মালিতে সামরিক জান্তা শাসন চলছে।

মতামত

0Comments

আপনার মতামত লিখুন (0)

#buttons=(ঠিক আছে!) #days=(20)

এই ওয়েবসাইটি ব্যবহারে আপনার অভিজ্ঞতাকে আরো উন্নত করার জন্য কুকিজ ব্যবহার করার প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু আমরা কখনই আপনার সম্মতি ছাড়া আপনার কোনো ডাটা সংরক্ষণ করব না। আরো জানুন
Ok, Go it!